জন্মের পর প্রথম তিন মাস বাবু পৃথিবীকে চেনে মূলত চোখ আর কান দিয়ে। এই সময়ে দামি বা জটিল খেলনার দরকার নেই। ঠিক জিনিসটা, ঠিক দূরত্বে আর অল্প সময়ের জন্য দেখালেই বাবুর জন্য সেটা দারুণ একটা খেলা।
এই বয়সে বাবু কী দেখে
নবজাতকের চোখ এখনো পুরোপুরি তৈরি হয়নি, তাই দূরের জিনিস ঝাপসা দেখায়। বাবু সবচেয়ে ভালো দেখে মুখ থেকে ২০–৩০ সেন্টিমিটার দূরের জিনিস, প্রায় কোলে নিয়ে খাওয়ানোর সময় আপনার মুখটা যতদূরে থাকে।
হালকা রঙের চেয়ে সাদা-কালো আর গাঢ় রঙের পার্থক্য বাবুর চোখে বেশি ধরা পড়ে। তাই বড় দাগ, বৃত্ত আর চেক নকশার সাদা-কালো ছবি এই বয়সে খুব কাজের।
চোখের খেলা: তিনটা সহজ উপায়
- সাদা-কালো কার্ড দেখান। বাবু সজাগ আর শান্ত থাকলে একটা কার্ড ২০–৩০ সেন্টিমিটার দূরে ধরুন। কয়েক সেকেন্ড তাকিয়ে থাকলে বুঝবেন খেলাটা ভালো লাগছে।
- ধীরে ধীরে সরান। কার্ড বা খেলনাটা খুব ধীরে ডানে-বামে সরান। চোখ দিয়ে অনুসরণ করা বাবুর জন্য একটা ব্যায়াম।
- আপনার মুখটাই সেরা খেলনা। কাছে এসে হাসুন, ভ্রু নাচান, কথা বলুন। বাবু মানুষের মুখ দেখতে সবচেয়ে ভালোবাসে।
কানের খেলা
বাবু জন্ম থেকেই আপনার গলা চেনে। নরম গলায় গান, ছড়া আর সারাদিনের ছোট ছোট কথা বাবুর শোনার জন্য সবচেয়ে ভালো খেলা।
- হালকা শব্দের র্যাটল এক পাশ থেকে আস্তে বাজান, বাবু মাথা ঘোরানোর চেষ্টা করবে।
- জোরে শব্দ করা খেলনা কানের খুব কাছে বাজাবেন না।
- টিভি বা ফোনের আওয়াজের চেয়ে আপনার সরাসরি কথা অনেক বেশি কাজের।
কতক্ষণ খেলবেন
এই বয়সে খেলা মানে দিনে কয়েকবার, অল্প কয়েক মিনিট করে। বাবু মুখ ফিরিয়ে নিলে, হাই তুললে বা কাঁদতে শুরু করলে বুঝবেন সে ক্লান্ত; তখন খেলা থামিয়ে কোলে নিন।
সেফ চয়েস চেকলিস্ট
- র্যাটল হালকা আর এক টুকরো, ভেতরের দানা বের হয়ে আসে না
- কার্ড শক্ত কাগজের, কিনারা গোল ও মসৃণ
- কোনো খেলনায় লম্বা ফিতা বা দড়ি নেই
- বাবু ঘুমানোর সময় বিছানায় কোনো খেলনা রাখবেন না
কখন ডাক্তারকে জিজ্ঞেস করবেন
প্রতিটা বাবু নিজের গতিতে বেড়ে ওঠে। তবে দুই মাসের কাছাকাছি সময়েও যদি বাবু আপনার মুখের দিকে না তাকায়, বা জোরে শব্দে একেবারেই সাড়া না দেয়, শিশু-বিশেষজ্ঞকে জানান। আগে জানলে আগে সাহায্য পাওয়া যায়।
পরের পর্বে: ৩–৬ মাস বয়সে ধরা, কামড়ানো আর ঝাঁকানোর খেলা।